চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া অংশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কোটি কোটি টাকার সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে। সওজের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি চক্র মহাসড়কের দুই পাশে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা, দোকানপাট এবং বিপণিবিতান গড়ে তুলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মিঠাদীঘির পাড় থেকে শুরু করে চুনতি সিটির গেট পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের অন্তত শতাধিক স্থানে এভাবে অবৈধ দখলদারিত্ব চলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মিঠাদীঘি, পদুয়া, আমিরাবাদ, লোহারদীঘির পাড়, আধুনগর খাঁ হাট, হাজির রাস্তা, চুনতি বাজার, ফরেস্ট অফিস এবং ফোর সিজনের সামনের সওজের জায়গা দখল করে অসংখ্য মার্কেট ও ভাসমান দোকান গড়ে তোলা হয়েছে।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, লোহাগাড়া উপজেলার মিঠাদীঘির পাড় থেকে চুনতি সিটি গেট পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার। সড়কের বিভিন্ন অংশে অধিগ্রহণ করা জমির প্রস্থ স্থানভেদে কম-বেশি রয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ফুট পর্যন্ত জায়গা অধিগ্রহণ করা আছে। অধিগ্রহণের সময় জমির মালিকদের নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছিল। ফলে আইনগতভাবে এসব জমিতে ব্যক্তিমালিকানা দাবি করে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইসহাক জানান, এসব অবৈধ স্থাপনা একদিনে বা হুট করে গড়ে ওঠেনি। সওজ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজনের চোখের সামনেই এগুলো তৈরি হয়েছে। মাঝে মাঝে লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর আবারও জায়গাগুলো দখল হয়ে যায়। এর ফলে মহাসড়কের পাশের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে চুনতি বাজার এলাকায় সওজের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ করা নাছির উদ্দীন নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, সড়কের জায়গাটি খালি পড়ে ছিল বলেই তিনি সেখানে দোকান দিয়েছেন। সওজের যখন প্রয়োজন হবে, তখন তিনি জায়গাটি ছেড়ে দেবেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রাম সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, সওজের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দখলদারদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং খুব দ্রুতই সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।





