কেএনএফ প্রধান নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা

Published: October 9, 2026, 3:12 am

পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) প্রধান নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কেএনএফের বিপুল পরিমাণ ইউনিফর্ম বা পোশাক তৈরি ও সেলাইয়ের জন্য ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে এই মামলা করা হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয় বলে সিআইডির গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মামলায় প্রধান আসামি নাথান বম ছাড়াও অন্য অভিযুক্তরা হলেন— মংহলাসিন মারমা ওরফে মং, নিয়াজ হায়দার, মো. গোলাম আজম, সাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, জামালুল ইসলাম, মো. তৌহিদুল ইসলাম ও মো. মতিউর রহমান। সিআইডি জানায়, কেএনএফের জন্য চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্মের ৪০ হাজার সেট কাপড় তৈরি ও সেলাইয়ের জন্য এই বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা হয়েছিল।

এই ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৮ মে রাত আড়াইটায়, যখন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি বিশেষ দল বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে কেএনএফের পোশাক তৈরির সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহর থানার ছোটপুল এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার একটি গোডাউন থেকে ১১ হাজার ২০০ সেট এবং একটি তৈরি পোশাক কারখানা থেকে baggy ৯ হাজার ১০০ সেটসহ মোট ২০ হাজার ৩০০ সেট ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি সেটে একটি শার্ট ও একটি প্যান্ট ছিল। এ ঘটনায় প্রথমে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে এই পোশাক তৈরির আর্থিক লেনদেন নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, চেক, নগদ অর্থ প্রদান, ক্রয়াদেশ ও পারস্পরিক যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে সিআইডি জানতে পারে, কেএনএফের প্রতিনিধি হিসেবে মংহলাসিন মারমা প্রথমে নিয়াজ হায়দারের সঙ্গে এবং পরে তার মাধ্যমে গোলাম আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তারা ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কেএনএফের ইউনিফর্মের ক্যামোফ্লেজ প্রিন্টের কাপড় তৈরির ব্যবস্থা করেন।

মংহলাসিন মারমা নিজেকে ‘এমআই এন্টারপ্রাইজ’-এর সহকারী কমার্শিয়াল ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুটি ক্রয়াদেশ দেন। এর বিপরীতে ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডকে মোট ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হয়। এছাড়া ৪০ হাজার সেট ইউনিফর্ম সেলাইয়ের জন্য মংহলাসিন মারমার নির্দেশনায় নিয়াজ হায়দার ও গোলাম আজম তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রিংভো অ্যাপারেলস, এনএন ফ্যাশন ও নূর ফ্যাশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং এই তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭২ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের পোশাক তৈরিতে এই অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে প্রকৃত উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। কেএনএফের প্রতিষ্ঠাতা নাথান বমের নির্দেশনায় মংহলাসিন মারমাসহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে এই অর্থায়ন করেছেন বলে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এই আর্থিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পেতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে সিআইডি।

এ ঘটনায় গত ৭ অক্টোবর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলা করা হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy