সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১৬৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ২৪ জন, নারী ২৯ জন এবং শিশুর সংখ্যা ১১৩ জন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি থাকা এই ১১৩ শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হামে আক্রান্ত।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ঠিক কতজন হামে আক্রান্ত, সেই সঠিক পরিসংখ্যান জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক আচরণ করছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. বদরুদ্দোজা উজ্জ্বল বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট না করে জানান, অনেক শিশুই হাম নিয়ে ভর্তি রয়েছে, তবে সঠিক সংখ্যাটি তার তাৎক্ষণিক জানা নেই। তিনি এ বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স ফয়জুন নেছার সাথে কথা বলতে বলেন।
তবে নার্স ফয়জুন নেছা তথ্য প্রদানে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। তিনি দাবি করেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছাড়া তারা গণমাধ্যমে কোনো তথ্য দিতে পারবেন না এবং এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ না করার জন্য তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভাষ্যমতে, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ ও সংবেদনশীল বিষয় এবং তথ্য প্রকাশ করলে তাদের চাকরির ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্তৃপক্ষের এমন টালবাহানা ও তথ্য গোপনের চেষ্টা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, হামের মতো সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতিতে সঠিক তথ্য গোপন না করে তা প্রকাশ করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কৃপেশ রঞ্জন রায়ের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি সুনামগঞ্জে ছিলেন এবং তাদের লোকের কাছে সব তথ্য থাকে না। তিনি দাবি করেন, তারা সবসময় সংবাদকর্মীদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে থাকেন।





