ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের খবরের পর এখন কী করবে ইরান?

Published: September 26, 2026, 3:04 pm

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করেনি। তেহরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছিল ইরান। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে মাত্র সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান ট্রাম্পের শর্তগুলো পূরণ করবে কি না, তা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে বেশ সন্দিহান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে পুনরায় বোমা হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন। যদিও এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে হওয়া আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এদিকে গত শুক্রবার জাতিসংঘে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ওয়াশিংটন যদি চুক্তিতে সম্মত হয়, তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধের জন্য সাত দিনের সময়সীমা শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা থাকলে এই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইরান জানিয়েছে, এই চুক্তি সফল হলে পরবর্তীতে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে ডনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক বোমা অর্জন করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি মেনে নিলেও তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। এরই মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সামরিক কেন্দ্র ও স্বার্থকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin