দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ। রাজধানী বেলগ্রেডের প্রেসিডেন্ট ভবনে জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন। তার দায়িত্ব পরবর্তী দিন সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে, যিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।
ভুচিচ জানান, তিনি সাধারণ নাগরিক হিসেবে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। সংবিধান অনুযায়ী তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারেন না। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, পদত্যাগ করে নিজের দলের হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হতে চান। তার শাসনামলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
সার্বিয়ার এই রাশিয়াপন্থী জনতুষ্টিবাদী নেতার সরকার শুরু থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ ও ক্ষোভের মুখে ছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালে নভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহতের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, খরচ কমাতে নির্মাণকাজে নিয়ম মানা হয়নি এবং স্টেশনটির সংস্কারের সঙ্গে ভুচিচ নিজেকে জড়িয়ে সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
এই ঘটনার পর থেকে ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকরা রাস্তায় নেমে আসেন। এমনকি সার্বিয়ার টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচও এই আন্দোলনে সংহতি জানান। গ্রীষ্মজুড়ে বিক্ষোভ চলতে থাকে এবং পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগের পর পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে। যদিও ভুচিচের অধীনে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছিলেন, কিন্তু তাতে আন্দোলন থামেনি।
আগামী বছর ভুচিচের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আগাম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর। আসন্ন নির্বাচনে ভুচিচের প্রোগ্রেসিভ পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে থাকবে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ‘স্টুডেন্টস উইন’ এবং পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপীয় সার্বিয়া’।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ভুচিচ। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার কথা বললেও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং চীনের বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় তার রাজনীতি বরাবরই আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছে। সম্প্রতি তিনি সংবিধানের ক্ষমতাবলে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন, যার মধ্যে ২৩ জন ছাত্র এবং তার দলের অনুগত কয়েকজন রয়েছেন। সার্বিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএস জানিয়েছে, তারা গত দেড় বছরের বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে অভিযুক্ত ছিলেন।





