মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ তৈরি করেছে: অর্থমন্ত্রী

Published: October 3, 2026, 5:26 pm

রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত ‘ইকনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জিডিপির অনুপাতে কর আদায়ের হার চাহিদার তুলনায় বেশ কম এবং ব্যাংক খাতে দ্রুত আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অস্থিরতাকে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে, অর্থায়নের ব্যয় গত দশকের তুলনায় বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদ ও শুল্কবাধা নতুন করে দেখা দিয়েছে। ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও পরিবহন খাতের ব্যয় অস্থির হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী অর্থনীতির ওপর পড়ছে। এর ফলে পণ্যের দাম, টাকার বিনিময় হার এবং রপ্তানি আদেশের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মন্ত্রণালয়কে প্রায়ই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, জ্বালানির দামের ওঠানামা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বিষয়গুলো সীমিত তথ্য ও সময়ের মধ্যে সামাল দিয়ে জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সমস্যা লুকিয়ে লাভ নেই, বরং তা স্বীকার করে সমাধানের পথে এগোতে হবে।

সরকারের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এছাড়া করব্যবস্থাকে সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সততা ও মানবিকতা ছাড়া সমাজকে সঠিক পথে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তিনি আরও যোগ করেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি হিসেবে দেশের অর্থনীতিকে বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে রপ্তানি খাত বাণিজ্যসুবিধার বদলে প্রতিযোগিতার শক্তিতে টিকে থাকতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy