কারিগরি শিক্ষায় চীনের মডেল অনুসরণের পরিকল্পনা শিক্ষামন্ত্রীর

Published: October 3, 2026, 5:31 pm

বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে চীনের মডেল প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষায় তৃতীয় ভাষার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে আট মাসের মধ্যে অনেক অগ্রগতি হয়েছে এবং চীন থেকে শিক্ষক আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে এ ক্ষেত্রে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত বা ‘মিসকেস’ হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি কচুয়ায় সাবেক মন্ত্রীর বাড়িতে টেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে জানান, এখন একটি আস্ত কলেজ স্থানান্তর করা সম্ভব নয়, তবে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া জনশক্তিকে দক্ষ করে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে সৌদি আরবেও একটি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি প্রসঙ্গে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, মন্ত্রণালয়ের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ডাইরেক্টরেট অব ইনস্পেকশন অ্যান্ড অডিট (ডিআইএ) ঢেলে সাজানো হচ্ছে এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যোগ্য কর্মকর্তাদের সেখানে পদায়ন করা হচ্ছে। পাঠ্যবই ছাপানোর বিষয়ে তিনি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো এবারও সময়মতো মানসম্মত পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে। তবে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো প্রিন্টার্স জালিয়াতি করলে ভবিষ্যতে তাদের কাজ দেওয়া হবে না।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশকে ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে ক্রস-বর্ডার এডুকেশন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনোটি বাংলাদেশে শাখা খুলতে চাইলে আইন সংশোধন করে অনুমোদনের সুযোগ দেওয়া হবে। কচুয়ার সার্বিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং কচুয়ার প্রতিটি খাতের উন্নয়নে ‘শ্যাডো মিনিস্টার’ ও কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসা ব্যবস্থা ভিন্ন হলেও তা এগিয়ে যাচ্ছে এবং স্কুল ও মাদ্রাসার পরীক্ষা একই প্রশ্নে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy