উচ্চগতির রেলের উদ্ভাবক দেশ জাপানের সহায়তায় ভারতের বুলেট ট্রেন চালুর স্বপ্ন এক দশকেরও বেশি সময় পার করলেও এখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি। মুম্বাই ও আহমেদাবাদকে সংযুক্তকারী ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইনটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ছিল। কিন্তু প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নে বড় ধরনের বিলম্ব, লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরঞ্জাম সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের মুখে পড়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অবকাঠামোগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভারত ও জাপানের মধ্যে এখন এক তিক্ত বিরোধ চলছে।
২০১৫ সালে ভারত ও জাপান এই প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি বা ১৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। এই চুক্তির আওতায় জাপান ৫০ বছর মেয়াদী ঋণ প্রদান করে, যার সুদের হার ছিল মাত্র ০.১ শতাংশ। তবে জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রকল্পের কাজ অনেক পিছিয়ে যায়। দিল্লি সরকারের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ১ হাজার ৯৫০ কোটি ডলারে বা প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে। জাপানের সাবেক বিচারমন্ত্রী হিদেকি মাকিহারা গত জুলাই মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সরাসরি ভারতের সমালোচনা করে লিখেছেন, প্রকল্পের অগ্রগতির অভাবের জন্য ভারত শতভাগ দায়ী এবং তারা কখনো তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না।
জাপানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ভারত চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে সিগন্যালিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ জার্মান শিল্পগোষ্ঠী সিমেন্সকে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা ক্ষুব্ধ। জাপানি বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানি রেল ট্র্যাক, ইউরোপীয় সিগন্যালিং এবং ভারতীয় ট্রেনের সমন্বয়ে তৈরি এই ‘হাইব্রিড’ ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ পরীক্ষাহীন, যা বুলেট ট্রেনের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে জেআর ইস্টের নেতৃত্বাধীন জাপানি কোম্পানিগুলো চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ। জাপানি প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি এই পরিস্থিতিকে ‘বিশৃঙ্খলাপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং বর্তমানে আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভারতের রেল মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জাপানি কূটনীতিকরা প্রকল্পের প্রথম ধাপ চালুর সময়সীমা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ভারত আগামী গ্রীষ্মে ১০০ কিলোমিটার অংশ চালুর কথা বললেও, জাপানিদের মতে তা মাত্র ৫০ কিলোমিটার হতে পারে। ইতোমধ্যে আহমেদাবাদ-মুম্বাই রুটে ‘সেমি হাইস্পিড’ বন্দে ভারত ট্রেন চালু হয়েছে এবং ভারত সরকার প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সাতটি হাইস্পিড করিডোর তৈরির পরিকল্পনা করেছে, যেখানে ১৬ লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগের আশা করা হচ্ছে।
ট্রেন চালুর প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০২৩ সাল। তবে জমি অধিগ্রহণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন অনেক পিছিয়ে যায়। দিল্লি সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় বেড়ে ১ হাজার ৯৫০ কোটি ডলারে (প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার কোটি রুপি) দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দেশ দুটির মধ্যে টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করে।
ইতোমধ্যে আহমেদাবাদ-মুম্বাই রুটে ভারতে তৈরি ‘সেমি হাইস্পিড’ বন্দে ভারত ট্রেন চলাচল করছে। তা ছাড়া রেল মন্ত্রণালয় প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সাতটি হাইস্পিড রেল করিডোর চিহ্নিত করেছে। এর মাধ্যমে ১৬ লাখ কোটি রুপি (১৬৭ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যাবে বলে দেশটি আশা করছে।





