এআই নয়, ভবিষ্যতের পৃথিবীতে মানুষের বুদ্ধিমত্তাই আসল

Published: October 19, 2026, 11:20 am

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আলোচিত বিষয়। যন্ত্র মানুষের জীবন সহজ করবে, নাকি চাকরি কেড়ে নেবে—তা নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। তবে লেখক ও সাংবাদিক ফরিদ জাকারিয়া এআইয়ের উৎকর্ষের যুগে মানুষের নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা বা 'হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স' (এইচআই)-এর ওপরই অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বার্ড কলেজের ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এআই এখন প্রবন্ধ লেখা, গান তৈরি, রোগ শনাক্তকরণ বা জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম। কিন্তু ফরিদ জাকারিয়ার মতে, এআই কী কী করতে পারে, শুধু তা নিয়ে না ভেবে বরং ভাবতে হবে, মানুষের এমন কী কী গুণ আছে, যেগুলো তাকে অন্য সবকিছু থেকে আলাদা করে। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষের মস্তিষ্ক প্রায় তিন পাউন্ড বা ১ দশমিক ৪ কেজি ওজনের হলেও এটি মাত্র ২০ ওয়াট শক্তিতে কাজ করে, যেখানে উন্নত এআই সিস্টেম চালানোর জন্য বিশাল ডেটা সেন্টার, অসংখ্য সার্ভার এবং বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তির প্রয়োজন হয়।

একজন শিশু কোনো প্রোগ্রামিং ছাড়াই চারপাশের পরিবেশ ও মানুষের আচরণ থেকে ভাষা, আবেগ এবং উদ্দেশ্য বুঝতে শেখে। মানুষের বুদ্ধিমত্তার সাথে জড়িয়ে আছে অভিজ্ঞতা, বিবেক ও অনুভূতি। এআই হয়তো দুঃখের কবিতা লিখে দিতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের দুঃখ অনুভব করা বা প্রিয়জন হারানোর বেদনা বোঝা তার পক্ষে সম্ভব নয়। মানুষের লেখা গল্পে লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পৃথিবী দেখার দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে ওঠে, যা পাঠককে গভীরভাবে স্পর্শ করে।

ফরিদ জাকারিয়ার মতে, বড় বিপদ হলো মানুষ যদি যন্ত্রের মতো হতে চায়। আমাদের সহানুভূতি, বিচারবুদ্ধি, কল্পনাশক্তি, বন্ধুত্ব এবং ক্ষমা করার মতো মানবিক গুণগুলো যেন হারিয়ে না যায়। তিনি এআইকে ভয় না পেয়ে বরং বুঝেশুনে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এআই রোগ নির্ণয় বা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সহায়ক হতে পারে, কিন্তু কোনটি নৈতিক বা কোনটি মূল্যবান, সেই সিদ্ধান্ত মানুষকেই নিতে হবে।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এআই ব্যবহারে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি যেন মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও মানবিকতা চর্চায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো প্রশ্নের উত্তর এআই থেকে পাওয়ার পর তা যাচাই করা, নিজের ভাষায় বোঝানো এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শেখার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। তথ্য মুখস্থ করার চেয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা ও অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া ভবিষ্যতে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo