রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বি-২ ধাপের পরীক্ষা সম্পন্ন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমোদনের অপেক্ষা

Published: October 24, 2026, 8:46 am

জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত করার প্রক্রিয়ায় বড় ধরণের অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ‘বি-২’ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ আনুষঙ্গিক সব প্রয়োজনীয় কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার সার্বিক চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে ইতিমধ্যেই জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই কেন্দ্রটি মূল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ বা ‘পাওয়ার স্টার্টআপে’ প্রবেশ করবে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, আগামী ২৫ অক্টোবরের দিকেই পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্ধারিত এই সময়ে কাজ শুরু হওয়া পুরোপুরি নির্ভর করছে পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর। প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র পাওয়ার পর ইউনিটটি সি স্টেজে পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে পাওয়ার স্টার্টআপ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

এদিকে রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি রাশিয়ার এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে দলটি গত ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেয়। সফরকালে বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিনিধিদলটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনামের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে মন্ত্রীকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকায় অবস্থিত রাশিয়া দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তি ও ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং প্রকল্প পরিচালনাকারী সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ নির্বাহীরা। বৈঠকে দুই পক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজের বর্তমান স্থিতি, সার্বিক অগ্রগতি এবং আগামীতে যৌথভাবে বাস্তবায়নের উপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।

পরীক্ষার অগ্রগতির বিষয়ে এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানান, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্ট ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, বুধবার বাযেরার কাছে চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। রুশ প্রতিনিধিদল প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতির বিষয়টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। বাযেরার অনুমতি পাওয়ার পর পরবর্তী সি স্টেজ ও পাওয়ার স্টার্টআপের কাজ ধাপে ধাপে শুরু হবে।

ড. জাহেদুল হাসান আরও উল্লেখ করেন, পাওয়ার স্টার্টআপের প্রথমভাগে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হবে। পরবর্তীতে প্রতিটি ধাপে সফলতা অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, ইউনিটটির উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হবে। সে অনুযায়ী চলতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের আশাবাদ প্রকাশ করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে এ পুরো প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করছে প্রতিটি স্তরের পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করা এবং বাযেরা সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার ওপর।

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ২০-২৩ অক্টোবর পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে বাংলাদেশ সফর করে। এসময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল বৈঠকে ইউনিট-১-এর ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি সি স্টেজে প্রবেশ করবে এবং এরপর পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin