সরকারি সব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ, বাদ পড়ছেন আওয়ামীপন্থীরা

Published: September 23, 2026, 9:21 am

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা এবং জেলা পর্যায়ে গঠিত সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত বিদ্যমান কমিটিগুলো ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আশরাফুল ইসলামের সই করা ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্তরে কমিটি থাকলেও, অধিকাংশ কমিটি কয়েক বছর আগে গঠিত হওয়ায় বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অনেক কমিটির প্রজ্ঞাপন বা কার্যক্রমের সঠিক তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে নতুন বাস্তবতায় কমিটিগুলো হালনাগাদ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দুটি বিষয়কে প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, এমন অনেক কমিটি রয়েছে যেগুলোতে দীর্ঘদিন কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। দ্বিতীয়ত, অনেক কমিটিতে আওয়ামীপন্থী ব্যক্তিরা বহাল রয়েছেন। ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এসব ব্যক্তিরা অনেকে আত্মগোপনে বা দেশের বাইরে চলে গেছেন, ফলে কমিটির সভায় তাঁদের অংশগ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া, তাঁদের উপস্থিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

চিঠির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি পুনর্গঠিত কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যার মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকা বাধ্যতামূলক। এই সদস্যদের মনোনয়ন দেবেন সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক। এছাড়া, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার বিদ্যমান কমিটিগুলোতে সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটি পুনর্গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর সভাপতি হিসেবে ডিসিরা দায়িত্ব পালন করেন। এক জেলা প্রশাসক জানান, বর্তমান বাস্তবতায় পুরোনো কমিটির সদস্যদের নিয়ে সরকারি কার্যক্রম চালানো কঠিন, তাই এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদেরও সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাদের মনোভাব ক্ষমতাসীনদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আগের সরকারের আমলে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধির বাইরে থাকা পাঁচজন সদস্যের (একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সাংবাদিক এবং তিনজন রাজনৈতিক ব্যক্তি) কাঠামো অনুযায়ী এবারও সমানসংখ্যক প্রতিনিধি রাখার নির্দেশনা রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo