জনগণের সংকটে এমপি-মন্ত্রীদের সুবিধা বাড়ানোর সুযোগ নেই: ডা. শফিকুর রহমান

Published: September 23, 2026, 10:23 am

দেশের মানুষ যখন নানাবিধ সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে, তখন প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর যেকোনো উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিট সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গোটা সমাজ যখন সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে, তখন সংসদ সদস্যদের নিজেদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। তিনি সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তা স্পষ্টভাবে প্রতিহত করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা জনগণের প্রয়োজনে সংসদ সদস্য হয়েছেন, কোনো বেতনের বিনিময়ে নয়। ১৮ কোটি মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন হলে তখন সবার সঙ্গে অংশীদার হতে তাদের আপত্তি থাকবে না। জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগেই সরকারি প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল এবং পরে সংসদেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি সরকারি দলকেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, শাসকের মানসিকতা পরিহার করে সেবকের মানসিকতা নিয়ে কাজ করা উচিত।

সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে নোটিশ দিলেও আলোচনার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা বারবার নোটিশ দিয়েছেন। তেলের সংকট নিয়ে তাদের নোটিশের পর সরকারি ও বিরোধী দলের পাঁচজন করে সদস্য নিয়ে একটি ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি দেশের শিল্প ও তৈরি পোশাক খাতের সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, উৎপাদন কমলে শিল্পমালিকরা সংকটে পড়বেন এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ফলে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জীবনযাত্রা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

সম্প্রতি জামায়াতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ছিল। কর্মসূচি বানচাল করতে কেউ আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করলে তার দায় তাদেরই। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক লিটার জ্বালানির দাম ২০ টাকা বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পণ্য পরিবহন ও বাজারদরের ওপর পড়ে। গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে 'ফটোকার্ড' তৈরির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। তিনি গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বেতন-বোনাস ও অধিকার নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে কাজ করার আশ্বাস দেন। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তিনি সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণ করেন না এবং তাকে বরাদ্দকৃত সরকারি বাসাটি স্থায়ীভাবে নয়, বরং দায়িত্ব পালনের জন্য ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin