বিশ্ববাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাবে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। টানা এক সপ্তাহের ব্যবধানে মূল্যবান এই ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, যার প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারেও।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪০ ডলারে নেমে এসেছে। সবমিলিয়ে সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সাথে মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের দামও ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক হ্যান তান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) এখনো তাদের কঠোর মুদ্রানীতিতে অটল রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত প্রত্যাশা করতে ভয় পাচ্ছেন। আগামীতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমবাজারের দুর্বলতা ফেড কীভাবে সামাল দেয়, তার ওপরই স্বর্ণের দামের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ভর করছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা ও চড়া সুদের হারের কারণে স্বর্ণের দাম ২০ শতাংশের বেশি কমেছে।
বিশ্ববাজারের এই মন্দা কেবল স্বর্ণেই সীমাবদ্ধ নেই; অন্যান্য মূল্যবান ধাতু যেমন রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে মূল্যবান ধাতুর বাজার চলতি সপ্তাহে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের এই দরপতনের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৩০ thousand ৭৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।





