গাইবান্ধার চরাঞ্চলের সাড়ে ৮ হাজার পরিবার পাচ্ছে ৬০ হাজার টাকা সাহায্য

Published: November 8, 2026, 8:47 am

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৮ হাজার পরিবারের ভাগ্য বদলে শুরু হচ্ছে এক বিশেষ আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা গিভডিরেক্টলির সহযোগিতায় এবং স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) বাস্তবায়নে চরাঞ্চলের পরিবারগুলোকে শর্তহীনভাবে মোট ৬০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ‘চয়েস, হোপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (চর) বাংলাদেশ পাইলট প্রকল্পের’ আওতায় এ অর্থ বিতরণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দারিদ্র্য দূরীকরণের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথ সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

রোববার সকালে গাইবান্ধার জিইউকে রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির সার্বিক বিষয় তুলে ধরা হয়। সেখানে প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট তথ্য জানান গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে স্থানীয় সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।

প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণ করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি, ফজলুপুর ও এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়ন এবং সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের মোট ৮ হাজার ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এ সহায়তার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে মোট দুই কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা মেটানো হবে। এর মধ্যে চলতি নভেম্বর মাসেই প্রথম কিস্তির ৯ হাজার টাকা এবং পরবর্তী মাস অর্থাৎ ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তির অবশিষ্ট ৫১ হাজার টাকা বিতরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান এম. আবদুস সালাম জানান, নিজের প্রয়োজন ও সংকটের ধরণ সবচেয়ে ভালো বোঝেন উপকারভোগীরা নিজেই। তাই এ সহায়তার ক্ষেত্রে কোন অর্থ কোন খাতে খরচ করতে হবে, সে বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা বা শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। পরিবারগুলো নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘরবাড়ি মেরামত, গবাদিপশু কেনা, ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো, পুরনো ঋণ পরিশোধ কিংবা সঞ্চয় করার কাজে এ অর্থ স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।

এম. আবদুস সালাম আরও উল্লেখ করেন যে, এককালীন এই বড় অঙ্কের অর্থ দরিদ্র পরিবারগুলোর আয় ও সম্পত্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে, যা ছোট কিস্তিতে পাওয়া সহায়তায় সম্ভব হয় না। এতে পরিবারগুলোর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বন্যা ও অসুস্থতার মতো দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আসবে। প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর পূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে জরিপ চালিয়ে শতভাগ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী সব সদস্যের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই সহায়তার মূল লক্ষ্য হলো চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করা।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) পরিচালক আবু সায়েম মো. জান্নাতুন নূর রিশাত এবং গিভডিরেক্টলির অ্যাসোসিয়েট ফিল্ড ম্যানেজার মো. রাশেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। পুরো কার্যক্রমটি সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন সংস্থাটির সহকারী সমন্বয়কারী জয়া প্রসাদ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin