নতুন সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

Published: October 15, 2026, 6:41 am

দেশজুড়ে নতুন সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বঞ্চিত আবেদনকারী ও স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালা ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং ঘুষের বিনিময়ে বিতর্কিত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের সার বিক্রির দোকান বা গুদাম পর্যন্ত নেই।

এই অনিয়মের জেরে অনেক জেলায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায় ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন স্থানে সার সরবরাহ সংকটের অজুহাতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এএইচএম সাইফুল ইসলাম জানান, স্বচ্ছতার অভাবে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের মাধ্যমে সার সংকট কাটবে না, বরং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা জাতীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক পরিদর্শনে বলেন, যেসব জেলায় সার নিয়ে সমস্যা হচ্ছে, সেখানকার এমপিরা ১১ দলীয় জোটের। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে বর্তমান সরকারের আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার (নির্দিষ্ট করে ৪,৯৩১টি) ডিলার নিয়োগের বিপরীতে ৪৬ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ৫৫ জেলার ডিলার নিয়োগের আংশিক তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের যোগ্যতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণমাধ্যমের তথ্য ও বিভিন্ন মহলের অভিযোগ অনুযায়ী, ডিলারশিপ পেতে প্রতিটি ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ লাখ, কোথাও কোথাও ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তির অভিযোগ উঠেছে। যদি প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়, তবে ৫ হাজার ডিলারের ক্ষেত্রে এই অংক দাঁড়ায় ৫০০ কোটি থেকে ৭৫০ কোটি টাকা।

বিভিন্ন জেলায় স্বজনপ্রীতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের বিএনপিদলীয় এমপির ছেলে, ভগ্নিপতি ও ভাগনের স্ত্রী ডিলারশিপ পেয়েছেন। রাজশাহীর ৬৯ জন নতুন ডিলারের তালিকায় বিএনপি নেতাদের আত্মীয়স্বজনের প্রাধান্য দেখা গেছে। মেহেরপুরে নতুন ২২ জন সার ডিলার নিয়োগ নিয়েও দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ফরিদপুরের নগরকান্দা এবং গাইবান্ধার কামারজানিতেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলনের ঘটনা ঘটেছে। ময়মনসিংহ-৮ আসনের এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুও প্রকাশ্যে সার ডিলার নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ১২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin