যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একটি প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে। ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে ৫০ বছর বয়সী নারী বন্দি ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাকে পেন্টোবারবিটালসহ প্রাণঘাতী রাসায়নিকের দুটি ডোজ দেওয়া হলেও তার মৃত্যু হয়নি।
কারা কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফায় মৃত্যু না হলে দ্বিতীয়বার ইনজেকশন দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে দ্বিতীয় দফা ইনজেকশনের পরও পাইক জীবিত থাকায় পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘ সময় শ্বাস-প্রশ্বাস চলতে থাকার এক পর্যায়ে পাইক কারারক্ষীদের দিকে তাকিয়ে ইনজেকশনের অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পরবর্তীতে সাংবাদিকদের এলাকা ছাড়তে বলা হয় এবং পর্দা টেনে দেওয়া হয়।
পাইকের আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে আদালতে আবেদন জানিয়ে জানান, ইনজেকশন দেওয়ার পরও বন্দি অচেতন অবস্থায় নাক ডাকছিলেন এবং তার হৃদস্পন্দন সচল ছিল। আদালতের নির্দেশে তাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। টেনেসির প্রায় দুই শত বছরের ইতিহাসে কোনো নারী বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এটি ছিল প্রথম প্রচেষ্টা।
রাজ্যের গভর্নর বিল লি ঘটনার পরপরই একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং চলতি বছর টেনেসিতে নির্ধারিত অন্যান্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করেছেন। কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তারা প্রচলিত আইন ও নিয়ম মেনেই কাজ করেছে, তবে পাইকের আইনজীবীরা রাজ্যের প্রাণঘাতী ইনজেকশন ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটির অভিযোগ তুলেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ১৯৯৬ সালে পাইকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়। তার আইনজীবীরা দাবি করে আসছেন যে, শৈশবে তার ওপর হওয়া যৌন নির্যাতন এবং তার মানসিক ও স্নায়বিক সমস্যাগুলো বিচারে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। চলতি সপ্তাহে গভর্নর তার প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ঘটনার পর নিহত স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ এটিকে একটি বিশৃঙ্খল ও ব্যর্থ প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে টনি ক্যারাথার্স নামের আরেক বন্দির মৃত্যুদণ্ডও শিরা খুঁজে না পাওয়ার কারণে স্থগিত করতে হয়েছিল।
বুধবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাকে পেন্টোবারবিটালসহ প্রাণঘাতী রাসায়নিকের দুই ডোজ দেওয়া হলেও তার মৃত্যু হয়নি।
১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন পাইক। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৬ সালে তার মৃত্যুদণ্ড হয়। স্লেমারের সঙ্গে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে পরিচয়ের পর প্রেমঘটিত বিরোধ ও অপমানের জেরে পাইক ও তার সহযোগী তাদারিল শিপ হত্যাকাণ্ডে জড়িত হন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। শিপের বয়স ১৭ হওয়ায় তার ক্ষেত্র





