জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে।
মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
অনুমোদিত প্রকল্পের অন্যতম হলো বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ। ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। পরিকল্পনা কমিশন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এতে বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং পাওয়ার সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হবে। এই ঋণের সুদের হার ২ শতাংশ এবং ১৬ বছরে তা পরিশোধযোগ্য। প্রকল্পটি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাবে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রামপালের ব্লক-বি এলাকায় বিপিডিবির নিজস্ব ৯১৮ দশমিক ৫০ একর জমিতে নির্মাণ করা হবে, ফলে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিকটবর্তী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঞ্চালন অবকাঠামো ব্যবহার করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
একনেক সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সাতটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়ন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের অবকাঠামো ও রাস্তা পুনর্বাসন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা ও ড্রেনেজ নির্মাণ এবং সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প অন্যতম। এছাড়া সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনীও অনুমোদন পেয়েছে।
অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৪৩টি জলযান সংগ্রহ ও দুটি স্লিপওয়ে নির্মাণ, রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ, ফ্রান্সের প্যারিসে চ্যান্সারি ভবন সংস্কার ও আধুনিকায়ন, এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প—পঞ্চগড়ের দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ ও থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী। এছাড়া জয়পুরহাটের নদী ও খাল পুনঃখনন প্রকল্পের বিষয়ে সভায় অবহিত করা হয়।
সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য বিপিডিবি ২০১২ সালে রামপালে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে। জমিটি ৯১৫ দশমিক ৫০ একর আয়তনের ব্লক-এ এবং ৯১৮ দশমিক ৫০ একর আয়তনের ব্লক-বিতে ভাগ করা হয়। ব্লক-এতে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেডের মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। আর ব্লক-বি বিপিডিবির আওতায় রয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দু’টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে— ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ এবং থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী।





