বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ই-পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিনিজ। সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রমকে আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে কাজের পুনরাবৃত্তি বা দ্বৈততা (ওভারল্যাপিং) আছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য তিন সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। সাঈদ আল নোমান, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিনিজকে নিয়ে গঠিত এই উপকমিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ মূল কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে।
হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান জানান, কাগজনির্ভর সংসদের পরিবর্তে কাগজবিহীন সংসদ গড়ার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনের সংসদীয় কার্যক্রমে কয়েক টন কাগজ ব্যবহারের ফলে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়, তা কমানোর পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এছাড়া অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে খসড়া আইনের ওপর মতামত প্রদান, ই-পিটিশন দাখিল এবং সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকবে।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বলেন, উদ্যোগটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর জন্য এখনো কোনো বরাদ্দ হয়নি। তবে গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।





