বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি জানান, পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ এবং কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা বা না রাখার সিদ্ধান্ত একান্তই বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড়। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী শেখ হাসিনা ছাত্রজীবন থেকেই গণ-আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ছাত্রসংসদের সহসভাপতি, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে থাকায় বেঁচে যান। এরপর দীর্ঘ ছয় বছর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিরোধী দলের নেতা ছিলেন।
শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবার এবং ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পর তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন সময়ে সামরিক সরকারের হাতে অন্তরীণ ও গৃহবন্দী হয়েছেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও তাঁর দলের ২২ জন নিহত হন।
শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ১৯৯৮ সালে ইউনেসকো তাঁকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার, ২০০৯ সালে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার, ২০১৫ সালে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ’ এবং একই বছর আইটিইউ থেকে পুরস্কার পান। তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে পরমাণুবিজ্ঞানী স্বামী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালের ৯ মে মারা যান। তাঁর এক ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ ও এক মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ রয়েছেন। শেখ হাসিনার সাতজন নাতি-নাতনি রয়েছে।





