আগামী ১৮-২৪ মাসে ডিজিটাল আইডি চালুর পরিকল্পনা বাংলাদেশের

Published: September 23, 2026, 6:16 am

বাংলাদেশে সরকারি সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে একটি একক ডিজিটাল পরিচয় বা আইডি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ জানিয়েছেন, সরকার বর্তমানে এআই-নির্ভর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) গড়ে তোলার কাজ করছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

অনুষ্ঠানে রেহান আসাদ বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু করেছে এবং আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে এটি চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ও নিরাপদ ডিপিআই এবং ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশের সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, এই যাত্রা দীর্ঘ এবং এর কোনো শর্টকাট নেই, তবে সরকার ভবিষ্যতের টেকসই ভিত্তি নির্মাণের কাজ করছে।

জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রযুক্তিবিষয়ক দূতের কার্যালয় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে ডিপিআইয়ের উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন দেশের অবকাঠামোর মধ্যে ইন্টারঅপারেবিলিটি বা পারস্পরিক সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া এআই কীভাবে ডিপিআইকে সহায়তা করতে পারে এবং ডিপিআই কীভাবে এআই-নির্ভর সেবার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

নিজের ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এস্তোনিয়ার 'এক্স-রোড' মডেল নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন রেহান আসাদ। সরকারি বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে নিরাপদে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এই মডেলটি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। অনুষ্ঠানে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, রুয়ান্ডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল উদ্যোগগুলোও তুলে ধরা হয়। রুয়ান্ডার উদাহরণ টেনে আসাদ জানান, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সনদ সংগ্রহের জন্য নাগরিকদের সশরীরে দপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন কমানোই এর মূল লক্ষ্য।

ভবিষ্যতে সরকারি সেবার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এটি কেবল বাংলাদেশ বা এশিয়া-প্যাসিফিকের বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেই এটি অপরিহার্য। ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও আস্থা বজায় রাখতে দেশগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy