বিদ্যুৎ-পানিহীন দিল্লির শতবর্ষী মসজিদে জুমার নামাজ মুসল্লিদের

Published: October 23, 2026, 6:10 pm

ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদে প্রশাসনের উচ্ছেদ-আতঙ্ক, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই জুমার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের কাছাকাছি অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন এই মসজিদটি ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। শুক্রবার মসজিদের চারপাশের ধ্বংসস্তূপ মাড়িয়ে মুসল্লিরা সেখানে জড়ো হন। শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ সম্পন্ন হলেও প্রশাসনের ভূমিকার বিরুদ্ধে মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।

স্থানীয় প্রশাসন রেসকোর্স মসজিদটিকে অবৈধ ঘোষণা করে উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেছে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার আগেই মসজিদসংলগ্ন এলাকায় বুলডোজার চালিয়ে বসতবাড়ি ও দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু দিল্লিতেই নয়, ভারতের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়ও অবৈধ দখলের অজুহাতে মূলত মুসলিমদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল, যার ফলে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত ও যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ছিল। তবে জুমার নামাজের সময় পুলিশ কিছুটা নমনীয় হয়ে মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

নামাজ শেষে আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা আমানতউল্লাহ খান দাবি করেন, দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ড, এনডিএমসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে এবং ঐতিহাসিক মসজিদটি সুরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। স্থানীয় মুসল্লিরা আলোচনার মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান আশা করছেন। তবে বিহার থেকে আসা আশরাফুল খানসহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুসলিমদের বেছে বেছে নিশানা করা হচ্ছে। মইদুল আলম নামের এক ব্যক্তি জানান, বিদ্যুৎ ও পানিহীন মসজিদ চত্বরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং নামাজ পড়ানোর সময় ইমাম সাহেবের চোখে পানি চলে এসেছিল।

৭ অক্টোবর থেকে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ১৫ অক্টোবর দিল্লি হাইকোর্টে সংযোগ পুনর্বহালের আবেদন খারিজ করে আদালত জানায়, ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে, তাই সংযোগ ফিরিয়ে দিলে জননিরাপত্তার ঝুঁকি হতে পারে। এরপর এলাকাটিতে আধা সামরিক বাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মসজিদের ইমাম মৌলভি হারুন অভিযোগ করেন, ১৭ অক্টোবর ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের এক কর্মকর্তা তাঁকে ছয় দিনের মধ্যে মসজিদ খালি করার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন। ইমামের দাবি, এটি ওয়াক্‌ফ তালিকাভুক্ত বৈধ সম্পত্তি। সরকারি সূত্রের দাবি, মসজিদ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়নি। আদালত জানিয়েছেন, ইমামের ব্যক্তিগতভাবে রিট করার আইনি অধিকার নেই এবং ওয়াক্‌ফ বোর্ড সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হয়নি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo