গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে ভাইবোনের বিরোধের জেরে মৃত্যুর প্রায় ২৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বাবার দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। মৃত নাজির উদ্দিন বেপারী (৮০) উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সম্পত্তির ন্যায্য অংশ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত বাবার দাফন করতে দেবেন না বলে অনড় অবস্থানে রয়েছেন তার মেয়ে হালিমা বেগম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার দুপুরে অসুস্থতাজনিত কারণে নাজির উদ্দিন বেপারীর মৃত্যু হয়। এরপর আজ সকাল ১০টায় জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। নির্ধারিত সময়ে জানাজা ও দাফনের জন্য মুসল্লিরা উপস্থিত হলেও ছেলে ইদ্রিস আলী ব্যাপারী ও মেয়ে হালিমা বেগমের বিরোধের কারণে সন্ধ্যা পর্যন্ত দাফন কাজ সম্পন্ন করা যায়নি।
হালিমা বেগমের অভিযোগ, তার বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকাকালে প্রায় দেড় বছর আগে তার ভাই ইদ্রিস আলী ব্যাপারী বাবার সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আপত্তি জানালে ভাই সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি সম্পত্তির কোনো অংশ বুঝে পাননি। হালিমা জানান, তাকে বর্তমানে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তবে তিনি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নয়, বরং বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে চান। বিরোধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তিনি দাফনে সম্মতি দেবেন না বলে জানান।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন। আজ বিকেলে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান জানান, গত কাল থেকেই তিনি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন এবং দ্রুতই সমাধান হবে বলে আশা করছেন। ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিনও স্থানীয়দের নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইদ্রিস আলী দীর্ঘদিন ধরে তার বোনকে সম্পত্তির ভাগ দেওয়ার বিষয়ে টালবাহানা করছেন এবং সম্প্রতি তার সঙ্গে খারাপ আচরণও করেছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইদ্রিস আলী ব্যাপারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।





