রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ না পড়ার ভয়াবহ পরিণাম

Published: October 15, 2026, 6:27 am

পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ। তাঁর সুন্নত অনুসরণ এবং তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করা ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জান্নাতে যাওয়া সম্ভব নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন হাদিসে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, যে ব্যক্তির সামনে তাঁর নাম উচ্চারিত হওয়ার পরও সে দরুদ পাঠ করে না, সে ব্যক্তি জান্নাতের রাস্তা থেকে দূরে সরে থাকে এবং তাকে সবচেয়ে বড় কৃপণ হিসেবে গণ্য করা হয় (মিশকাত : ১/৮৬; আত-তারগিব : ৩৮৪, ৩৮৫)।

দরুদ পাঠ না করার ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) মিম্বারে ওঠার সময় জিবরাইল (আ.)-এর সতর্কবার্তার প্রেক্ষিতে তিনবার 'আমিন' বলেছিলেন। জিবরাইল (আ.) বলেছিলেন, 'ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যার সামনে আপনার নাম আলোচিত হয় অথচ সে আপনার ওপর দরুদ পেশ করে না।' রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বক্তব্যের সমর্থনে 'আমিন' বলেছিলেন (ইবনে হিব্বান : ৯০৮; আল-আদাবুল মুফরাদ : ৬৪৬)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, এমন ব্যক্তির নাসিকা ধূলায় ধূসরিত হোক বা সে অপমানিত হোক (তিরমিজি : ৩৫৪৫; মিশকাত : ৯২৭)।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৃষ্টিতে এমন ব্যক্তি চরম কৃপণ। আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তারা কি জানে সবচেয়ে বড় কৃপণ কে? এরপর তিনি নিজেই জানান, যার সামনে তাঁর নাম নেওয়া হলো কিন্তু সে দরুদ পড়ল না, সে-ই সবচেয়ে বড় কৃপণ (তিরমিজি : ৩৫৪৬; আত-তারগিব : ৩৮৫)।

দরুদ পাঠ না করা জান্নাতের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দরুদ পাঠ করা ভুলে গেল, সে যেন জান্নাতের পথই ভুলে গেল (ইবনে মাজাহ : ৯০৮)। এছাড়া হুসাইন বিন আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে যে, নাম শোনার পরও দরুদ থেকে দূরে থাকা ব্যক্তিকে জান্নাতের রাস্তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হবে। জিবরাইল (আ.) আরও জানিয়েছিলেন, যার সামনে আপনার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে দরুদ পাঠ করল না এবং অতঃপর মারা গেল, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং আল্লাহ তাকে রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেবেন (ইবনে হিব্বান : ২৩৮৭)।

কিয়ামতের দিবসেও এটি আফসোসের কারণ হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো জাতি যদি বৈঠকে বসে আল্লাহকে স্মরণ না করে এবং তাঁর ওপর দরুদ পাঠ না করে, তবে কিয়ামতের দিন তাদের জন্য তা আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, এমনকি তারা জান্নাতে প্রবেশ করলেও। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এমন ব্যক্তিকে হতভাগ্য এবং লাঞ্ছিত হওয়ার যোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে (মুস্তাদরেকে হাকেম : ১/৫৫০; আমাল, ইবনুস সুন্নি : ৩৮১; মিশকাত : ১/৮৬)।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh