শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা ও গার্ড অব অনারে বিদায় নিলেন আখতার হুসেন

Published: September 25, 2026, 9:37 am

কবি ও শিশু সাহিত্যিক আখতার হুসেনকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হয়েছিলেন শত মানুষ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় তার মরদেহ শহীদ মিনারে আনা হয়। সেখানে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী ও জাতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আখতার হুসেনের ছোট ছেলে প্রমিত হুসেন জানান, তার বাবা অত্যন্ত মানবিক মানুষ ছিলেন। একদিন রাতে খালি গায়ে বাসায় ফেরার পথে এক ছেলেকে মারধর করে শার্ট ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার বাবা নিজের শার্ট ছেলেটিকে দিয়ে এসেছিলেন। প্রমিত হুসেন বলেন, তার বাবা সবসময় মানুষকে ভালোবাসতেন এবং সবার ভালো চাইতেন। অসুস্থ থাকাকালীন সহকর্মী শিল্পীদের করুণ দশা দেখে তিনি বেদনাতুর হয়ে পড়েছিলেন। বাংলাদেশে অনেক শিল্পীর চিকিৎসার সামর্থ্য নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার বাবা শেষবার বলে গিয়েছিলেন, ‘আর কোনো শিল্পী যেন এ কষ্টে না থাকে।’ এ সময় তিনি শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বেইলি রোড থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা তাসলিমা আকতার বলেন, আখতার ভাই তাদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন। সাহিত্য, রাজনীতি ও সংগীতে তার অবদান অনস্বীকার্য। ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা রাজিব হাসান তাকে নিজের রাজনৈতিক গুরু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যেকোনো দ্বিধায় তিনি আখতার হুসেনের পরামর্শ নিতেন এবং তিনি দিকনির্দেশনা দিতেন।

বিদায় অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত ও ছাত্র ইউনিয়নের দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পুলিশ গার্ড অব অনার প্রদান করে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণসহ নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আখতার হুসেন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন হৃদরোগ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন।

ছয় দশকের বেশি সময় ধরে শিশু-কিশোরদের জন্য লেখালেখি করা আখতার হুসেনের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। এর মধ্যে ছড়া, শিশুতোষ মৌলিক গ্রন্থ, জীবনী, অনুবাদ ও সম্পাদনা উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত পাঁচ খণ্ডের ‘শিশু-বিশ্বকোষ’-এ সর্বাধিক লেখার কৃতিত্বও তার।

সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতিপদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ প্রদত্ত মুক্তিযোদ্ধা কলম সৈনিক সম্মাননা, মনিরউদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পুরস্কার, এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার ও বজলুর রহমান স্মৃতিপদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

বাংলা একাডেমির ফেলো আখতার হুসেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনটির প্রাথমিক পর্যায়ের বহু নাটক রচনা ও নির্দেশনায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়া ‘খেলাঘর’ সংগঠনের সংগঠক হিসেবেও তিনি দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সংগীত ‘আমরা তো ঐক্যের দৃঢ় বলে বলীয়ান, শোষণের কারাগার ভাঙবই’ এবং খেলাঘরের ‘আমরা তো সৈনিক, শান্তির সৈনিক’ গান দুটি তার লেখা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin