বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মোহাম্মদ সুজাউদ্দৌল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা তার ছেলের হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন এবং সরকার পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। এ সময় মামলার পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান আবরারের বাবা। তিনি উল্লেখ করেন, আবরার হত্যা মামলার একজন আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার ছয় মাস পর পরিবারকে জানানো হয়েছিল।
আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। তিনি বলেন, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করেন। প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের আশ্বাস দেন এবং আবরার ফাহাদের নামে সেতুটির নামকরণের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া আবরারের কবর পাকাকরণ ও পাশের মসজিদটির নির্মাণকাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, প্রত্যেক ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা অন্য কোনো মায়ের সন্তান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যেন আর কোনো ক্যাম্পাসে আগের মতো পরিবেশ ফিরে না আসে এবং কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান এবং বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি তোলেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া পাঠ্যবইয়ে আবরার ফাহাদের ঘটনা অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তার ভাই। জুলাই আন্দোলনে নিহতদের তালিকার মতো আবরার ফাহাদসহ অন্যান্য সময়ে নিহতদের একটি তালিকা তৈরির দাবি জানালে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ই অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগের দিন ফেসবুকে ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি নিয়ে সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার জেরে তাকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট সেই রায় বহাল রাখেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। সাক্ষাতের সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।





