জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত ও আটক

Published: November 6, 2026, 6:45 pm

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মনিরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের বিপরীতে ভারতের পুটিখালি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মনিরুল ইসলাম হরিহরনগর গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত আলীর ছেলে। আহত মনিরুল জীবিত নাকি মারা গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় চোরাচালানের পণ্য আনা-নেওয়ার উদ্দেশ্যে মনিরুলসহ সাতজন সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি এলাকায় যান। বিএসএফ সদস্যরা তাদের দেখতে পেয়ে গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়েন। এতে মনিরুলের পায়ে গুলি লাগে এবং পিঠের বিভিন্ন স্থানে রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বিএসএফ সদস্যরা তাকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান। এ সময় মনিরুলের সঙ্গে থাকা বাকি ছয়জন পাশের খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার সময় মনিরুলের সঙ্গে থাকা অন্যরা হলেন রাশেদ (৩২), আনিছ (৩৫), সোহান (২৫), শাওন (২৬), মিন্টু (৩৮) এবং মশিয়া (৪০)। তাদের বাবার নাম যথাক্রমে কামাল উদ্দিন, তৈয়ব আলী, বগে, কিনার উদ্দিন, মৃত বদরুদ্দিন এবং মতেহার হোসেন।

হরিহরনগর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য টিটু জানান, সন্ধ্যার পরপরই সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের কাছ থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান এলাকাবাসী। পরে তিনি জানতে পারেন যে, মনিরুলকে বিএসএফ আহত অবস্থায় আটক করে নিয়ে গেছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি শুনেছেন, তবে প্রশাসনিকভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাননি। এ বিষয়ে ৫৮ বিজিবির টু-আইসি মেজর তাহসিন জানান, হরিহরনগর সীমান্তে গুলি চালানোর পর একজনকে বিএসএফ নিয়ে গেছে বলে তারা খবর পেয়েছেন। তবে এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সীমান্তে গুলি চালানোর ঘটনায় বিএসএফকে পতাকা বৈঠকে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin