আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উত্থান দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে গত ২২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৩৪ দশমিক ৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা লেনদেনের একপর্যায়ে ৪ হাজার ১৪৬ দশমিক ৬৩ ডলারেও উঠেছিল।
স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দরপতন এবং ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণত ডলারের মান কমলে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা সাশ্রয়ী হয়, অন্যদিকে বন্ডের মুনাফা কমে গেলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ বাড়ে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ সুদের হারের প্রত্যাশাকে দুর্বল করে দিয়েছে।
এর আগে বুধবারও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল, যা গত ১৯ আগস্টের পর এক দিনে সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধি। এর ফলে গত শুক্রবারের এক বছরের সর্বনিম্ন দরের তুলনায় চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ২৫০ ডলারের বেশি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসের সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দরও ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৪ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় এবং এর পরবর্তী বাজার পরিস্থিতিও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে শুক্রবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের অকৃষি খাতের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের দিকে, যা ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে ধারণা দেবে।





