টঙ্গীতে ১০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন

Published: November 4, 2026, 5:35 pm

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিক আন্দোলনের সময় নিহত শ্রমিকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে এক লাখ টাকা অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বুধবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সরকার, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরও জানান, পোশাক খাতের শ্রমজীবী মানুষের সুযোগ-সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে টঙ্গীতে একটি ১০০ শয্যার বিশেষায়িত শ্রমজীবী হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বল্প সময়ের নোটিশে আয়োজিত এই বৈঠকে সব পক্ষের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি স্পষ্ট করে দেয় যে দেশ ও শিল্পের স্বার্থে সবাই অত্যন্ত আন্তরিক। এ সময় অস্থিতিশীল পরিবেশ বা শিল্প ধ্বংসের কোনো প্ররোচনায় কান না দিয়ে শ্রমিকদের শান্ত থাকার এবং কারখানায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকলে আয় বৃদ্ধি পাবে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং মজুরিও বাড়বে। শ্রমিকদের কোনো নতুন প্রস্তাব থাকলে তা মজুরি বোর্ডে লিখিতভাবে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আন্দোলনে কোনো নিরীহ শ্রমিক গ্রেপ্তার হয়ে থাকলে তাদের মুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হবে, তবে কোনো দুষ্কৃতকারী ছাড় পাবে না। মজুরি কাঠামোর অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, গত রোববারের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠন করে বিকেলেই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে এবং ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব তৈরি করে জানুয়ারির মধ্যে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, পোশাক খাতের প্রতি বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। গঠিত মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে বলে তিনি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া শ্রমিক প্রতিনিধিরা দ্রুততম সময়ে মজুরি বোর্ড গঠন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং সাধারণ শ্রমিকদের শান্ত থেকে কাজে ফেরার আহ্বান জানান। অন্যদিকে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি শিল্পের স্বার্থে আইন করে শিল্পাঞ্চলে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি জোর অনুরোধ জানান।

ত্রিপক্ষীয় এই বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শ্রমিক সংগঠন ও মালিকপক্ষের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy