যুক্তরাষ্ট্রের ২৩৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল-সাইয়েদ

Published: November 4, 2026, 1:26 pm

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে দেশটির সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। ৪২ বছর বয়সী মিসরীয় বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিকের জয়ের মাধ্যমে ১৭৮৯ সালে সিনেটের কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ২৩৭ বছরের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। এর আগে অবসরে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে জয়ী হয়ে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন।

আল-সাইয়েদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে। মিশিগানের রচেস্টার হিলসে জন্মগ্রহণকারী এই রাজনীতিক ২০০৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে রোডস স্কলার হিসেবে ২০১১ সালে অক্সফোর্ড থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট এবং ২০১৪ সালে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৫ সালে তিনি ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শহরটির আর্থিক সংকটের পর জনস্বাস্থ্যসেবা পুনর্গঠনের উদ্যোগ তদারকির দায়িত্ব ছিল তাঁর। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন আল-সাইয়েদ। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে প্রার্থী হলেও প্রাথমিক বাছাইয়ে পরাজিত হন। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবিক ও প্রবীণ সেবাবিষয়ক বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় আল-সাইয়েদ সবার জন্য মেডিকেয়ার কর্মসূচি, আবাসন ব্যয় হ্রাস এবং শ্রমজীবী পরিবারের অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের নভেম্বরের এ নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে আল-সাইয়েদ সেই ধারা ভাঙলেন। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিতি পান আল-সাইয়েদ। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে তিনি গণহত্যা আখ্যায়িত করে নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার এই অবস্থান নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হয়ে ওঠে।

প্রচারণার সময় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভক্তিও স্পষ্ট ছিল। দলের অনেক নেতা স্বাস্থ্যসেবা ও ইসরায়েল ইস্যুতে তার সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। এমনকি দলের প্রাথমিক নির্বাচনে হেরে যাওয়া হেইলি স্টিভেন্স নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানান। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতারা তার ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন। এর জবাবে আল-সাইয়েদ বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতেই প্রেসিডেন্ট তার নাম ও ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করছেন।

সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বার্নি স্যান্ডার্স, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং রাশিদা তালিবের মতো প্রগতিশীল নেতাদের সমর্থন তাকে এগিয়ে রাখে। এই কাউন্টির মধ্যেই ডেট্রয়েট শহর অবস্থিত। রাজনীতিতে উত্থান ও ঐতিহাসিক জয় ২০২৬ সালে নির্বাচনী রাজনীতিতে ফেরেন আল-সাইয়েদ। এর আগে ২০০৬ সালে কিথ এলিসন এবং ২০১৮ সালে রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমর কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হলেও সিনেটে আল-সাইয়েদই প্রথম মুসলিম হিসেবে প্রবেশ করলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo