পাবনায় শিশু কলি হত্যা: আসামির বাড়িতে দ্বিতীয় দিনেও বিক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুর

Published: September 19, 2026, 2:36 pm

পাবনায় ১০ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে দ্বিতীয় দিনের মতো ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই কুলোনিয়া গ্রামে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির সামনে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়িটির বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর শুরু করেন। সময় গড়ানোর সাথে সাথে সেখানে মানুষের উপস্থিতি ও ভাঙচুরে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। ভাঙচুরে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, তারা ওই এলাকার বাসিন্দা না হলেও কলি হত্যার নৃশংসতায় ক্ষুব্ধ হয়ে সেখানে ছুটে এসেছেন এবং এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল জানান, দ্বিতীয় দিনের মতো সকাল থেকে স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ ওই বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশু কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর, ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে তাদের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে। পাবনার পুলিশ সফল মো. আশ্রাফ আলী এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে ঘটনার দিন শিশুটিকে একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর নিজেদের ওপর থেকে সন্দেহ এড়াতে আসামিরা নিজেরাই নিখোঁজ শিশুটিকে খোঁজার নাটকে অংশ নেয়। এমনকি কলিকে উদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন ও তল্লাশি অভিযানেও তারা উপস্থিত ছিল। বর্তমানে দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin