ইসরায়েলের বার্ষিক অর্থ সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

Published: November 3, 2026, 4:18 pm

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে প্রদান করা বার্ষিক ৪০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট প্রদানের পর ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

ট্রাম্প জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগেই এই সহায়তা বন্ধের বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে নেতানিয়াহু ও আমার মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। আমরা প্রতিবছর ইসরায়েলকে ৪০০ কোটি ডলার দিই। কয়েক মাস আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটি বন্ধ করা হবে।’ তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা প্রদান করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, ইসরায়েল বর্তমানে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, যার ফলে তাদের আগের মতো মার্কিন আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন নেই। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, আর্থিক সহায়তা বন্ধ হলেও ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করতে পারবে। একই সুবিধা ইউরোপের দেশগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সামরিক সহায়তা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত ১০ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারক বর্তমানে কার্যকর রয়েছে, যা অনুযায়ী ২০১৯ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা। এর মধ্যে ৩৩০ কোটি ডলার বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন এবং ৫০ কোটি ডলার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দ।

ট্রাম্প ঠিক কোন ধরনের অর্থায়ন বন্ধের কথা বলেছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে গত মে মাসে সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, আগামী এক দশকের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চান। এছাড়া জুন মাসে এক মার্কিন আইনপ্রণেতাকে লেখা চিঠিতেও তিনি ইসরায়েলকে সহায়তা গ্রহণকারী দেশের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh