চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে ডালাস পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাইশা মুশফিরাত মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের মেয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে লোকাল মিনিবাসের অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি লরি মিনিবাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে শিক্ষার্থীদের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে মাইশাসহ তিন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠীরা তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে রাজিয়া সুলতানা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য আহত শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
সহপাঠীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় লেন ও সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করে রাখেন। এতে হাজারো যানবাহন আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, নারী, শিশু ও বয়স্করা। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণসহ নিরাপদ সড়কের ছয় দফা দাবিতে এই আন্দোলন করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে লরিচালককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করা, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। বারো আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট শামীম জানান, দীর্ঘ সময় গাড়ি আটকে থাকায় কুমিরা থেকে চট্টগ্রাম শহর পর্যন্ত যানজট তৈরি হয়েছে, যা স্বাভাবিক হতে আরও তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।





