কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ঘোড়াউত্রা নদীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার সময় পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া মাঝি কফিল উদ্দিনের ২৪ ঘণ্টাতেও সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ এই মাঝিকে উদ্ধারে নিকলী থানা পুলিশ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করতে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত ডুবুরি দল যুক্ত করা হয়েছে। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ঘোড়াউত্রা নদীতে প্রতিযোগিতা চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ কফিল উদ্দিন উপজেলার গুরুই ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিকলী বেরিবাঁধ এলাকায় সম্মিলিত নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে কিশোরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার প্রতিযোগী নৌকা অংশ নেয়। বেরিবাঁধ সংলগ্ন হাওরে পানি কম থাকার কারণে আয়োজকরা খরস্রোতা ঘোড়াউত্রা নদীতে প্রতিযোগিতার ভেন্যু নির্ধারণ করেন। হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতা চলাকালে গুরুই ইউনিয়নের একটি নৌকা নদীর মাঝখানে পৌঁছালে পেছনের দিক থেকে পানিতে পড়ে যান কফিল মাঝি। সে সময় নৌকার অন্য মাঝিরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের জন্য নদীতে ঝাঁপ দিলেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
ঘটনার খবর পেয়ে নিকলী ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে দুই দিন ধরে লাগাতার চেষ্টা চালিয়েও কফিল উদ্দিনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় কফিলের পরিবার ও পুরো গুরুই ইউনিয়ন জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বিকেলে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হলেও জরুরি সুরক্ষার জন্য ফায়ার সার্ভিসকে আগে থেকে কোনো তথ্য জানানো বা অবহিত করা হয়নি। পাশাপাশি, নিকলী স্টেশনটি কিশোরগঞ্জের একমাত্র স্থল কাম নদী ফায়ার স্টেশন হওয়া সত্ত্বেও সেখানে নিজস্ব কোনো ডুবুরি নেই। ফলে জেলা সদর থেকে ডুবুরি দল আসার অপেক্ষায় উদ্ধারকাজ শুরু করতে দীর্ঘ সময় নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মোফাজ্জল হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় স্টেশনগুলোতে ডুবুরি সংকট থাকলেও তারা মধ্যবর্তী সুবিধাজনক স্থানে টিম প্রস্তুত রেখে দ্রুত সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। অন্যদিকে নিকলী থানার এসআই রুমান জানান, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হাওর ও নদী এলাকায় উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রাখা হয়েছে।





