পোশাক শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার নেপথ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ

Published: November 2, 2026, 2:41 am

রাজধানীর মিরপুর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে সংগঠিত সহিংসতায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরাসরি উসকানি ও নাশকতায় জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। রবিবার ১ নভেম্বর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ার পর পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরাই এই নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারী। গ্রেপ্তারকৃতরা স্থানীয় কোনো পোশাক কারখানার শ্রমিক নন; তারা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের ছদ্মবেশে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা অভিযান চলমান রয়েছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণ পোশাক শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই নাশকতা চালানো হচ্ছে। শ্রমিকদের ছদ্মবেশে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিতকারীদের কঠোর হাতে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিকে, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে, পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সরকার, মালিক ও শ্রমিক—এই তিন পক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করবে।

এর আগে, মিরপুর এলাকায় আন্দোলনের নামে রাস্তা অবরোধ করে সহিংসতা শুরু হলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। এতে তীব্র যানজটের পাশাপাশি হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin