খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং ও মাদক সেবনের দায়ে ৩০ শিক্ষার্থীর শাস্তি

Published: November 2, 2026, 7:34 am

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং, মারধর, হয়রানি ও মাদক সেবনের মতো শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শাস্তির মধ্যে ১০ জন শিক্ষার্থীকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে, পাশাপাশি অন্যদের অর্থদণ্ড এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলা বোর্ডের নথিতে দেখা যায়, একজন শিক্ষার্থীকে দুটি ভিন্ন ঘটনায় দুই দফায় শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৯ জুলাই ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে ছয় শিক্ষার্থীকে হয়রানির দায়ে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ফারদিন আহমেদ এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শেখ আমির মাহদ্বীন ও শেখ মুরসালিন রহমানকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ বছরের ৬ মে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজির ২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী র‍্যাগিংয়ের শিকার হলে শৃঙ্খলা বোর্ড প্রণয় কুমার ঘোষকে দুই টার্ম বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং জুবায়ের হোসেনকে এক টার্ম বহিষ্কার ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। একই ঘটনায় অসিম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা এবং স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মণ্ডল ও সজল পালকে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

গত ১২ মে আইন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ আমানকে মারধরের ঘটনায় ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজির বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সুদীপ কুমার নন্দী, মাহমুদুর রহমান, হেমেন্দ্র মৃধা, আসিফ আদনান, আজিজিল ইসলাম, শেখ তাজবীদ ইসলাম, রাকিব হোসেন ও প্রণয় কুমার ঘোষকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১৪ আগস্ট রাতে আবাসিক বাসায় শিক্ষার্থীদের জোর করে আটকে রাখার ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে দুই টার্ম বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা, মারুফ সরোয়ারকে এক টার্ম বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা এবং মিশন রহমান ও খায়রুল ইসলামকে এক টার্ম বহিষ্কার ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাইদিস সালেহীন, ঋত্বিক কর্মকার, সৌরভ চন্দ্র বর্মণ ও রাগিব শাহরিয়ারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন ভবনে মাদক সেবনের দায়ে তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। ঘটনায় এস এম তৌফিক আলমকে দুই টার্ম বহিষ্কার ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, মুশফিক উল ইসলামকে এক টার্ম বহিষ্কার ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং কাজী রিয়াজুস ছলেহীনকে এক টার্ম বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক মো. সালাউদ্দীন জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা এই শাস্তির বিরুদ্ধে একাডেমিক কাউন্সিলে আপিল করতে পারবেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo