বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি জেরিকা তাসনিম দিশাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের এ সিদ্ধান্ত দেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ১৯ বছর বয়সী দিশাকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল থানার নিজ বাসা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে গিয়ে মামলার তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়েছিলেন জেরিকা তাসনিম দিশা। এর আগেও তারা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’-এ যান। এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে এই মামলার অপর রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি ২৩ বছর বয়সী আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গেও দিশাকে একসঙ্গে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
তদন্তকারী পুলিশ জানায়, ভিকটিম তাহসিফের সঙ্গে দিশা রেস্টুরেন্টে অবস্থান করাসহ মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। তাহসিফের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে তাঁর একাধিকবার ফোনালাপ হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডে দিশার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ঘটনাস্থল নির্ধারণ, আলামত উদ্ধার এবং গ্রেপ্তার দীপ ও দিশার বক্তব্য মুখোমুখি যাচাইয়ের (ক্রস-চেক) জন্য তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।
এর আগে তাহসিফের ‘বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই’ হিসেবে পরিচিত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে নৌ পুলিশ। তিনি বর্তমানে আদালতের আদেশে চার দিনের রিমান্ডে টঙ্গী নৌ পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও দীপের দেওয়া বিভিন্ন তথ্যে অসঙ্গতি থাকায় দিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দিশার কাছ থেকে ঘটনার রাতে তাহসিফের শেষ মুহূর্তের অবস্থান ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে নৌ পুলিশ।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণকারী হিসেবে আলোচনায় আসা সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিখোঁজ হন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই রাতে ১০টা ১৭ মিনিটে তাহসিফ ও দীপের সঙ্গে দিশাও মোটরসাইকেলে করে উত্তরার ওই বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আসেন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাঁরা একসঙ্গে বের হয়ে যান। এর পর গত বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।





