৫৫ বছর ধরে নারকেলগাছ পরিষ্কার করেই সংসার চালাচ্ছেন তৈয়ব আলী

Published: October 31, 2026, 2:56 am

কৈশোরে শখের বশে গাছে চড়ার যে নেশা ছিল, তা-ই আজ ৭১ বছর বয়সী তৈয়ব আলীর পেশা। চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার দশপাড়া এলাকার বাসিন্দা তৈয়ব আলী ৫৫ বছর ধরে মানুষের নারকেলগাছের মরা ডালপালা কেটে পরিষ্কার করছেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘গাছ বাছাই করা’ হিসেবে পরিচিত। প্রয়াত ওহাব আলী ও আমেনা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান তৈয়ব আলী এখন স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে পৈতৃক ভিটায় বসবাস করেন।

তৈয়ব আলীর কর্মজীবনের শুরু ১৯৭১ সালে। তখন প্রতিটি গাছ বাছাইয়ের জন্য তিনি ১০ টাকা করে নিতেন, যা সময়ের ব্যবধানে বেড়ে এখন ২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মাসে গড়ে ৪০টি গাছ বাছাই করে বছরে তাঁর আয় হয় প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। এই আয়েই তিনি দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন এবং স্ত্রী ও দুই ছেলের ভরণপোষণ করছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলার পাশাপাশি তিনি মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম যেমন—লক্ষ্মীপুর, লুধুয়া, ফতেপুর, ঠেটালিয়া, রসুলপুর, বালুচর, সুজাতপুর, দুর্গাপুর ও গজারায় গিয়েও কাজ করেন। গরিব মানুষের গাছের ক্ষেত্রে তিনি কোনো মজুরি নেন না।

তৈয়ব আলীর শৈশব ছিল অভাবের। ১৬ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর সংসারের হাল ধরতে হয় তাঁকে। দুরন্ত স্বভাবের কারণে কৈশোরে তিনি বড় গাছে অনায়াসে চড়তেন বলে এলাকাবাসী তাঁকে ‘গেছো ছেলে’ বলে ডাকতেন। আজ বয়সের ভারে শরীর তেমন সায় না দিলেও জীবিকার তাগিদে তিনি কাজ থামাননি। তিনি বলেন, শরীর যতক্ষণ কুলায়, এই কাজ করে যাবেন।

পেশাগত জীবনে ঝুঁকির সম্মুখীনও হয়েছেন তিনি। ২৫ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে তিনি ডান পা ও কোমরে আঘাত পান, যা থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। তবে তাঁর কাজের আন্তরিকতার প্রশংসা করেন স্থানীয়রা। কলাদী এলাকার বাসিন্দা মো. আহনাব জানান, তৈয়ব আলী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম বলেন, বৃদ্ধ বয়সেও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে তৈয়ব আলী তাঁর শক্ত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং তিনি শ্রমজীবী মানুষের এক উজ্জ্বল প্রতিনিধি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo