প্রেমিককে বিয়ে করতে টাওয়ারে তরুণী, ভিডিও কলে সম্পন্ন হলো নিকাহ

Published: October 29, 2026, 5:04 am

পরিবারের অমতে প্রেমিককে বিয়ে করার আকুল আকুতি জানাতে ভারতের উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলায় এক অভূতপূর্ব ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। সাহিবা বেগম (যিনি মেহক নামেও পরিচিত) নামের ওই তরুণী বিয়ের দাবিতে হুট করেই একটি ১০০ ফুট উঁচু মোবাইল ফোন টাওয়ারে উঠে পড়েন। স্বজনেরা তার বিয়েতে সম্মতি না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ওপর থেকে নিচে নামবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানা যায়, মেহক ২১ বছর বয়সী নূরুদ্দিন নামের এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত। এই বিয়েতে দুই পরিবারেরই তীব্র বিরোধিতা ছিল। ঘটনার দিন এই প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে মায়ের সঙ্গে তুমুল তর্কের একপর্যায়ে মেহক হঠাৎ টাওয়ারে চড়ে বসেন। সে সময় তার প্রেমিক নূরুদ্দিন নিজ গ্রাম থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে মুম্বইয়ে কর্মরত ছিলেন।

টাওয়ারের ওপর মেহকের অবস্থানের খবরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তাকে দেখতে বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্গলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে নিরাপদে নিচে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালান। কিন্তু মেহক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিয়ের দাবি পূরণ না হলে তিনি ওপর থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করবেন। এভাবে টানা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে টাওয়ারের ওপর অবস্থান করেন তিনি।

খবর পেয়ে নারী পুলিশ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ মেহককে শান্ত থাকার আহ্বান জানায় এবং মুম্বইয়ে থাকা নূরুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে দুই পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেয়। উদ্ভূত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সমাধানে এগিয়ে আসেন স্থানীয় এক মুসলিম ধর্মীয় নেতা। অবশেষে তার উপস্থিতিতে ভিডিও কলের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীর নিকাহ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

নূরুদ্দিন মুম্বই থেকে সরাসরি ভিডিও কলে যুক্ত হন এবং টাওয়ারে অবস্থানরত মেহকের সঙ্গে তাদের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে নিকাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পরপরই মেহক টাওয়ার থেকে নামতে সম্মত হন। পরে নারী পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনেন। এর মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটকের সমাপ্তি ঘটে।

উদ্ধারের পর পুলিশ মেহক ও তার পরিবারের সদস্যদের কাউন্সেলিং করার উদ্দেশ্যে থানায় নিয়ে যায়। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে মায়ের জিম্মায় নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক আপত্তির মুখে প্রেমের সম্পর্ক পরিণতি দেওয়া নিয়ে যুগলদের যে পারিবারিক ও সামাজিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, এ ঘটনা সে চিত্রই প্রকাশ করল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin