যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে নিজেকে ব্রাজিলের বৈধ নেতা দাবি ফ্লাভিও বলসোনারোর

Published: October 29, 2026, 4:10 am

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। সেখানে গিয়ে তিনি নিজেকে ব্রাজিলের প্রকৃত ও বৈধ নেতা হিসেবে দাবি করেছেন। বুধবার প্রকাশিত একটি খোলা চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছেন। তবে তার এই দাবির স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলা প্রায় ৪৫ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।

অর্থ পাচারের একটি তদন্তের অংশ হিসেবে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট ফ্লাভিওকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ অমান্য করে তিনি গোপনে দেশ ত্যাগ করেন। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর ফ্লাভিও তার পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়ার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাকে সহায়তার জন্য আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ফ্লাভিও দাবি করেছেন, তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যাননি; বরং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্রাজিল ত্যাগ করেছেন। তবে তার বাবা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয় স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, যিনি পরবর্তীতে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন।

ব্রাজিলের নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে আইন ও সংবিধান মেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, বিশ্বনেতা এবং দেশটির আদালত এই নির্বাচনি ফলাফলকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লাভিওর এই আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। এদিকে, ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং তার নির্বাচন সংক্রান্ত দাবি নিয়ে ওয়াশিংটন ও ব্রাসিলিয়ার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লুলা অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বলসোনারো পরিবারকে ক্ষমতায় ফেরানোর চেষ্টা করছে, যদিও ওয়াশিংটন ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh