গুম প্রতিরোধে সংবিধানে নতুন কিছু যোগের প্রয়োজন নেই বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published: October 28, 2026, 3:04 pm

গুম প্রতিরোধে দেশের সংবিধানে নতুন করে কিছু অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে ইতোমধ্যে মানুষের জীবনের অধিকার স্পষ্টভাবে স্বীকৃত রয়েছে। পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, তাই ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ গুমের শিকার না হন সেজন্য কেবল প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং গুমের শিকার হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিদের প্রতিনিধিদের মতামত শুনতে এ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ‘মায়ের ডাক’সহ কয়েকটি সংগঠনের সহায়তায় ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্য থেকে ৪৮ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করে এই শুনানির আয়োজন করা হয়।

কমিটির বৈঠকে স্বজনহারা পরিবারগুলোর পক্ষে ভুক্তভোগীদের স্ত্রী, সন্তান ও বাবারা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কমিটির সদস্যরা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে স্বজনদের আবেগঘন কথা শুনেছেন, যেখানে অনেকেই কান্না ধরে রাখতে পারেননি। ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন করা, নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান বের করা, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান এবং তাদের উপযুক্ত পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়। তাদের সবার একই মূল আকুতি ছিল—ভবিষ্যতে যেন দেশের আর কোনো নাগরিককে গুমের শিকার হতে না হয়।

সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা অতীতে এসব গুম ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের আওতায় ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে জানিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন, আদালতের আদেশে অপরাধী ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রি করে সেই অর্থ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদি দোষীদের কোনো সম্পত্তি না থাকে বা তা অপ্রতুল হয়, তবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনবোধে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে আরও আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে।

অভিযোগ তদন্ত প্রক্রিয়ার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ পরিষ্কার করেন, যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংস্থার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠবে, নিরপেক্ষতা রক্ষায় সেই বাহিনী নিজেদের অভিযোগের তদন্ত নিজেরা করতে পারবে না; অন্য কোনো সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো হবে। আইনে তদন্ত, প্রশাসনিক জবাবদিহি, বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক ব্যবস্থার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।

বর্তমান সরকারের গত আট মাসের শাসনকালের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, এই সময়ে দেশে কোনো ক্রসফায়ার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, হেফাজতে মৃত্যু বা গুমের একটি ঘটনাও ঘটেছে কি না? তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, এমন একটি ঘটনাও ঘটেনি এবং একটি অভিযোগের বিষয়ে সরকার নিজে তদন্ত চালিয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীন তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকেও আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশের আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের কঠোর প্রয়োগের কথা বলতে গিয়ে শব্দচয়নে অসতর্কতা হয়ে থাকতে পারে, তবে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার বা উচ্চারণ করা সঠিক হয়নি। পরিশেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, যেসব বিষয় সংবিধানে রাখা প্রয়োজন সেগুলোই অন্তর্ভুক্ত হবে, আর যেসব বিষয় সাধারণ আইন বা বিধিমালার মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin