যশোর-বেনাপোল ও দর্শনা রুটে সকালে ট্রেন চালুর ৬ দফা দাবি

Published: October 28, 2026, 7:17 am

বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে সকালে ঢাকাগামী 'প্রভাতী এক্সপ্রেস' চালুসহ ছয় দফা দাবিতে রেলপথ মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক, যশোরের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পাঠায় বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। সংগঠনের আহ্বায়ক কাওসার আলী ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন স্মারকলিপিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ চালুর পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে রাজধানীতে দ্রুত ও কম খরচে যাতায়াতের বিপুল প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়। কিন্তু বর্তমানে বেনাপোল-যশোর-ঢাকা রুটে ট্রেনের যে সময়সূচি রয়েছে, তাতে যাত্রীরা দিনে গিয়ে দিনেই ঢাকার দাপ্তরিক বা প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে ফিরতে পারছেন না। একই সঙ্গে দর্শনা, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দারাও পদ্মা সেতু রেলপথের পর্যাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংগ্রাম কমিটির নেতারা জানান, বর্তমান সময়সূচি বহাল রেখে সকালে ঢাকাগামী অতিরিক্ত ট্রেন চালু করা হলে যাত্রীরা একই দিনে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে পারবেন। এর ফলে যাত্রীসাধারণের সময় ও যাতায়াত খরচ কমার পাশাপাশি রাজধানীর ওপর মানুষের চাপ কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এর আগে দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে রেল উপদেষ্টা ও রেল সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয়েছিল বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটির ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রধান দাবিগুলো হলো—বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে সকালে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালু করা, ঢাকা ও খুলনায় প্রতিদিন যাতায়াত করে অফিস করার উপযোগী সময়সূচি নির্ধারণ, প্রতিটি আন্তনগর ট্রেনে সাধারণ শ্রেণির বগি সংযোজন এবং ফুল, ফল, সবজি ও মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও মালামাল পরিবহনের জন্য বিশেষ বগির ব্যবস্থা করা। এছাড়া বাসভাড়ার তুলনায় সাধারণ ট্রেনভাড়া কম রাখা, অনলাইন নিবন্ধনের বাইরে বিকল্প উপায়ে টিকিট সংগ্রহের সুযোগ রাখা এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল রেললাইন নির্মাণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে স্মারকলিপিতে। এতে বলা হয়, পচনশীল কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধা যুক্ত হলে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে টিকিট প্রাপ্তি সহজ করা এবং সাশ্রয়ী ভাড়া বজায় থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য রেলভ্রমণ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সংকট নিরসনে এসব দাবি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিটি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin