ক্রসফায়ারের মন্তব্যে আইজিপির ব্যাখ্যা দাবি এবি পার্টির

Published: October 26, 2026, 4:42 pm

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ক্রসফায়ার সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পুলিশ পিছপা হবে না—আইজিপির এমন মন্তব্যকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছে দলটি।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল বাহিনীর প্রধানের মুখে এ ধরনের বক্তব্য আইনের শাসন, মানবাধিকার ও নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞার শামিল। তারা আরও বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনাকে এভাবে প্রকাশ্যে তুলে ধরতে পারেন না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মূল দায়িত্ব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা, আদালতের বাইরে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া নয়। সরকারের অনুমোদন থাকলেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বৈধতা তৈরি হয় না; রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার অবশ্যই সংবিধান ও আইনের সীমার মধ্যে হতে হবে।

নেতৃদ্বয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে পুলিশকে দমন-পীড়ন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, শিশু, নারী ও শ্রমজীবী মানুষসহ নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতি এখনো জাতিকে তাড়িত করে। সেই রক্তাক্ত অভিজ্ঞতার পর পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পুনরায় ক্রসফায়ারের বার্তা আসা রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুলিশ কোনো সরকারের ব্যক্তিগত বাহিনী নয়, বরং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের পেশাদারিত্বেরও পরিবর্তন ঘটাতে হবে—এমন নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে আইনের প্রতি আনুগত্যই হওয়া উচিত পুলিশের মূল অঙ্গীকার। আইজিপির এ বক্তব্যে জনমনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, আবারও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জীবন কেড়ে নেওয়ার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে কি না।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অপরাধ দমনের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না বলে উল্লেখ করে নেতৃদ্বয় বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তাকে গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্বাধীন আদালতের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অপরাধী দমনের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে হত্যার ক্ষমতা দেওয়ার মানসিকতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় আরও বলেন, যে পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, সেই বাহিনীর প্রধান যদি ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার কথা বলেন, তবে জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এ ধরনের বক্তব্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অবিলম্বে সরকারের কাছে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশে আর কোনোভাবেই ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি ফিরে আসবে না মর্মে সরকারের কাছ থেকে অঙ্গীকার চেয়েছেন। নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারহীনতার কোনো স্থান থাকতে পারে না বলে তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh