নির্বাসন শেষে দেশে ফিরলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো

Published: October 26, 2026, 4:31 am

দীর্ঘ ১০ মাসেরও বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন বিরোধী নেত্রী এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি তার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভিডিওতে তাকে তার গাড়ি ঘিরে উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের পতাকা ওড়াতে এবং আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। রাজধানী কারাকাসে পৌঁছানোর পর বিপুলসংখ্যক মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে রাস্তায় ভিড় করেন। রাতের অন্ধকারে অসংখ্য মুঠোফোনের আলোয় মুখরিত হয়ে ওঠে কারাকাসের রাস্তা। গত ৩০ বছরের মধ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এটিই ভেনেজুয়েলার সেরা সুযোগ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বারকিসিমেতো শহরের বাসিন্দা ৬৯ বছর বয়সী হারনান আদামেস রয়টার্সকে বলেন, তারা বিশ্বাস করেন মাচাদো ভেনেজুয়েলায় স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন এবং দেশটিকে উদ্ধার করবেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে আন্দোলনে প্রধান বিরোধী নেতা হিসেবে মাচাদো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান। ২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে তিনি বেশিরভাগ সময় আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে ডিসেম্বরে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য নরওয়ে গিয়ে আর দেশে ফিরতে পারেননি।

মাচাদোর প্রত্যাবর্তনের সময় ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা পরিবর্তিত হয়েছে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় দেশটিতে রাজনৈতিক পুনর্মিলন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় মাচাদোকে কার্যত বাইরে রাখা হয়েছে। তার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানতেন না, তবে তিনি আশা করেন মাচাদো নিরাপদে আছেন। ট্রাম্প মাচাদোকে একজন ভালো নারী হিসেবে অভিহিত করলেও তার নেতৃত্বের জনসমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

মাচাদোর দল ভেন্তে ভেনেজুয়েলার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক পরিচালক পেদ্রো উরুচুর্তু নোসেল্লি জানিয়েছেন, দেশে ফেরার মাধ্যমে মাচাদো রাজনৈতিক উত্তরণকে এগিয়ে নিতে এবং নতুন নির্বাচনের পথ তৈরি করতে চান। এর আগে তিনি অন্তত সাতবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। গত ১ সেপ্টেম্বর রুবিও বলেছিলেন, মাচাদোর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে জুনের শেষ দিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তার জন্য এবং সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে তিনি দেশে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

এদিকে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক উত্তরণ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে দেশটির বিপুল জ্বালানি সম্পদ। আগস্টের শেষ দিকে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, ভেনেজুয়েলার ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেলের মজুতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় পৌঁছেছে। মাচাদো এই তেল চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং একে অবৈধ শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সমঝোতা বলে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে মাদুরোর উত্তরসূরি দেলসি রদ্রিগেজের সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে, যা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতে মাচাদোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy