মাদরাসায় শিশুদের বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আলেম সমাজকে শক্ত অবস্থান নেওয়া ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। শুক্রবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।
ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের আলেম সমাজে অনেক অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় মানুষ রয়েছেন। হজ পালনকালে, সালাতের সময় কিংবা ইসলামী বয়ান শোনার ক্ষেত্রে তাদের কাউকে কাউকে তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। পাশাপাশি মাওলানা আহমাদুল্লাহর মতো কিছু আলেমের মানবিক কার্যক্রম দেখেও তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।
তবে তিনি বলেন, এই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বাইরে বৃহত্তর আলেম সমাজের একটি অংশে, বিশেষ করে কিছু মাদরাসা শিক্ষক শিশুদের বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ কবিরা গুনাহে জড়িয়ে পড়ছেন। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সংখ্যা সামগ্রিকভাবে হয়তো কম, তবে তা কোনোভাবেই নগণ্য নয়। তারা দিনের পর দিন এমন জঘন্য পাপ করে যাচ্ছেন, যে পাপাচারের কারণে মহান আল্লাহ হজরত লুত (আ.)-এর সময়ের জাতিকে কঠোর শাস্তি প্রদান করেছিলেন।
সাবেক আইন উপদেষ্টা আলেমদের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, খাদ্য, পোশাক, বিনোদন ও বাক্স্বাধীনতার মতো নানা সামাজিক ইস্যুতে প্রতিনিয়ত আলেমদের ফতোয়া দিতে দেখা যায়। এমনকি দু-একটি ক্ষেত্রে মব সৃষ্টি করে মানুষকে হত্যা পর্যন্ত করা হয়েছে। অথচ নিজেদের গোষ্ঠীর ভেতরে ঘটে যাওয়া বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধের বিরুদ্ধে নেতৃস্থানীয় আলেম, জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা কিংবা হুজুররা কেন সোচ্চার হন না, তা বোধগম্য নয়।
দেশে ইসলামবিরোধী নানা চক্রান্তের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কারণেই আলেম সমাজ সমস্ত ষড়যন্ত্রের মধ্যেও সম্মানের সাথে টিকে আছে। কিন্তু নিজেদের আঙিনায় বলাৎকার ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে মুখ না খুলে বরং অপরাধীদের প্রতি সহানুভূতি দেখালে, সেই অপরাধের দায় কোনো না কোনোভাবে তাদের ওপরও এসে পড়বে। এতে আলেমদের অনেকে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হবেন এবং সামগ্রিকভাবে আলেম সমাজের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান হ্রাস পাবে, যা বিশেষ করে কওমি মাদরাসাগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুতই আলেম সমাজের নেতৃত্বের সচেতনতা ফিরবে এবং ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকেই মাদরাসায় বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট ও কঠোর বক্তব্য পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে আলেমদের নিজ উদ্যোগেই এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাতে হবে।
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ৫১আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ০৩





