ঢাকার সাভারের বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ খানাখন্দ ও ভাঙাচোরার কারণে বর্তমানে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চলমান নির্মাণকাজের ফলে সড়কটি অনেক স্থানে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও চলছে কার্পেটিং ও ড্রেনের কাজ, যার ফলে নিয়মিত চলাচলকারী মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে রোগী বহন—সব ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাঙাচোরা সড়কে যানবাহন হেলেদুলে চলায় প্রায়ই যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ঝাঁকুনিতে পণ্য বা কাঁচামাল পড়ে গিয়ে ভেঙে যাচ্ছে। শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা বলছেন, ‘আগে যে জিনিস ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়া আনতাম, এখন লাগে ২৫০ টাকা।’ শিল্পকারখানাগুলোও পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া রোগীরা সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বাইপাইল–আশুলিয়া সড়কটি মূলত সাভার–আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি এটি ঢাকার সঙ্গে আশুলিয়া ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, বাইপাইল মোড়ের কিছু অংশে খোঁড়াখুঁড়ি ও কাদা জমে আছে, যা যানজটের সৃষ্টি করছে। বাইপাইল মোড় থেকে বগাবাড়ী পর্যন্ত ইটের সলিং করা রাস্তার ইট উঠে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এছাড়া নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণকাজ ও ড্রেনের কাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ঘেঁষে বালুর স্তূপের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
পরিবহন চালকদের মতে, রাস্তার ভাঙাচোরার কারণে গাড়ির পাতি ভাঙা, ব্রেক নষ্ট হওয়া এবং ইটের টুকরায় চাকা ফেটে যাওয়ার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান ও সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঝাঁকুনিতে পণ্য নষ্ট হওয়া এবং অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক আশিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সড়কটি দিয়ে পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না বলে তারা নবীনগর ও সাভারের বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন, যা খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শ্রমিক অধ্যুষিত এই এলাকায় চিকিৎসার জন্যও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও এখন সড়কের ধুলাবালু ও ভাঙাচোরার কারণে সাভারে যেতে হচ্ছে। ২ সেপ্টেম্বর ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার সার্ভিস সেতু খুলে দেওয়ার ফলে কিছু সুবিধা মিললেও, দূরবর্তী স্থান থেকে আসা শ্রমিকদের ভোগান্তি কমেনি।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেসব গর্ত মেরামত করা হচ্ছে, বৃষ্টির কারণে তা আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল ও ইপিজেড পর্যন্ত সড়কের এক পাশের দুই লেনের কাজ শেষ হলে ভোগান্তি দূর হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।





