পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আসা ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালানটি সফলভাবে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। বুধবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় জ্বালানিবাহী গাড়িগুলো প্রকল্প প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জ্বালানি পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাশিয়া থেকে বিশেষ বিমানে এই পারমাণবিক জ্বালানি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে বুধবার ভোরে তিনটি লরিতে করে এই ইউরেনিয়াম রূপপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। যমুনা সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে এই গাড়িবহর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। পরিবহনকালে মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে পুলিশের কড়া নজরদারি ছিল এবং সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
পুলিশ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে ঢাকা থেকে সড়কপথে এই জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছে। মহাসড়কে যানজট এড়াতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় রূপপুরে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর নিরাপদে পৌঁছেছে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল সাতটি কার্গোতে এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য ৪৮টি অ্যাসেম্বল দুটি কার্গোতে করে আনা হচ্ছে। এটি তারই একটি অংশ। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে আরও আটটি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে জ্বালানির বাকি চালানগুলো দেশে আসবে বলে জানা গেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটম) জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ইউনিটের জ্বালানি রূপপুরে পৌঁছায় এবং ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আরও চারটি চালানে জ্বালানি আনা হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি চুল্লিতে স্থাপন করা হয়। এছাড়া গত ৩ অক্টোবর প্রথম ইউনিটের ব্যবহারের জন্য বাড়তি ইউরেনিয়ামের একটি চালান রূপপুরে আনা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।





