আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় টানা পঞ্চম দিনের মতো সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার দিনভর চলা এই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ৮০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে এবং শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অথবা তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভবন রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশের দিকে পাথর ও পেট্রলবোমা ছুড়তে থাকে। পুলিশ এর জবাবে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এ সময় প্রথমবারের মতো রাবার বুলেট ব্যবহারের খবরও পাওয়া গেছে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বিকেলের দিকে শহরের প্রধান সড়কে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রী এদি রামার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। সেখানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পাথর ও আতশবাজির লড়াই চলে। এক পর্যায়ে একটি গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্ধ্যার দিকে দাঙ্গা পুলিশকে সহায়তার জন্য বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগ দাবি করছেন। ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, তারা ১৩৫ দিন শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার পর এখন ফ্রান্সের আদলে পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। ১৭ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অধিকার আদায়ে তারা ক্লাস বর্জন করেছেন। আন্দোলনকারীদের মতে, তারা শুধু বর্তমান সরকার নয়, বরং পুরো দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন চান। সাংবাদিক ওসমান স্তাফা এ সংকট নিরসনে এক বছরের জন্য নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা এদি রামা শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সরকারের অর্জনগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে এসব বিক্ষোভের পেছনে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি ও বিদেশি শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তবে তিনি কোনো বিদেশি শক্তির নাম উল্লেখ করেননি। ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ২০১৯ সালে গঠিত বিশেষ কৌঁসুলি দপ্তরের তদন্ত রামা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দেশটির প্রভাবশালী গোয়েন্দাপ্রধান ভ্লোরা হাইসেনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী এরগিস আগাসিকে বিচার এড়াতে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক লুৎফি দেরভিশির মতে, ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করার কারণে রামা এখন জনগণের ক্ষোভের প্রধান লক্ষ্য। ১৪০ আসনের সংসদে রামার সোশ্যালিস্ট পার্টির ৮৩টি আসন থাকলেও, চলমান এই বিক্ষোভ তার সরকারের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে তা এখনো অনিশ্চিত, কারণ পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ২০২৯ সালের আগে হওয়ার কথা নয়।
তবে কোনো বিদেশি শক্তির নাম উল্লেখ করেননি তিনি।আলবেনিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রামা।





