অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published: October 14, 2026, 10:34 am

বর্তমান সরকারের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব করছে না। তবে অপরাধী গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হচ্ছে। এরপরও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ কেন্দ্র ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সরদার নুরুল আমিন এবং কোইকার বাংলাদেশ কার্যালয়ের পরিচালক জি-হুন কিম। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।

অপরাধ দমনে পুলিশের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার অভিযানে কেউ যদি আসামিকে সহযোগিতা করে, তবে তার বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার জগতে প্রতারণা, অনলাইনে ব্ল্যাকমেইল, শেয়ারবাজারে কারসাজি এবং আর্থিক জালিয়াতিসহ নানা ধরনের অপরাধ বাড়ছে। এসব অপরাধ শনাক্ত, প্রতিরোধ ও তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।

তিনি আরও জানান, দেশের আটটি বিভাগীয় সদরে দ্রুত আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা হবে। এসব পরীক্ষাগারের মাধ্যমে ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ ও অপরাধ তদন্তের সক্ষমতা বাড়বে। এছাড়া অনলাইন প্রতারণা, মাদক ও অস্ত্রের বেচাকেনা এবং জঙ্গি কার্যক্রম শনাক্ত ও প্রতিরোধে এটি সহায়তা করবে। এতে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমানো সহজ হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশের একটি বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে এ ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারটি সিআইডির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে, তবে ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় রাখা হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin