ট্রাম্পের নির্দেশে গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ

Published: October 13, 2026, 5:45 pm

গ্রিসে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েল পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া মঙ্গলবার তার প্রথম ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এই ব্রিফিংটি ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, যা নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে কিম্বারলি গিলফয়েল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে লিখেছেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার সময় শেষ হয়ে এলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আমেরিকা প্রথম আন্দোলন এবং দেশের প্রতি তার ভালোবাসা কখনো শেষ হবে না। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, নিজের নাম, সুখ্যাতি এবং সততা রক্ষার জন্য তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই গিলফয়েলকে ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত মার্চ মাসে এথেন্সে এক নৈশভোজে গিলফয়েল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে গ্রিসের বর্তমান সরকারকেও ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রোমানিয়ার সরকারের পতন নিয়ে আলোচনার সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো দেশের সঙ্গেই এমনটা করতে পারে। তবে গিলফয়েলের আইনজীবী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই কথোপকথনের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

গিলফয়েলের এই কথিত মন্তব্য গ্রিসের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। গ্রিসের বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিসের সরকারের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করে। গ্রিসের জ্বালানিমন্ত্রী স্তাভরোস পাপাস্তাভরুও এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রিস ও বলকান অঞ্চলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানি সম্প্রসারণে গিলফয়েলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধী দলগুলো।

তবে গ্রিক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, গ্রিক সরকারকে হুমকি দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োরগোস গেরাপেত্রিতিস গিলফয়েলকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই বিতর্কের ফলে গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব এবং মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে গ্রিক সরকারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin