ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তোলায় এক যুবদল নেতা ও তাঁর সমর্থকদের ওপর হাতুড়িপেটার ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ওই যুবদল নেতাসহ মোট চারজন আহত হন।
আহত যুবদল নেতার নাম শেখ খোরশেদ আহমেদ ওরফে দোলন। তিনি রামনগর ইউনিয়নের দুলারডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা এবং ফরিদপুর জেলা যুবদলের সদস্য। হামলা চলাকালে খোরশেদকে বাঁচাতে এসে আহত হন উত্তর গোপীনাথপুর গ্রামের সুমন তালুকদার (৩৬), গোপালপুর গ্রামের ওয়াজেদ মোল্লা (৫০) ও বাড়ৈইডাঙ্গী গ্রামের মোস্তাক আহমেদ (৫০)। স্থানীয়রা আহত চারজনকেই উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
খোরশেদের ভাই শেখ ফরিদ আহমেদ জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে খোরশেদ বসে ছিলেন। সে সময় ডিলার মনোনীত হওয়া শিবলী সাদিক ওরফে তুষার মন্ডলের (৩০) নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল হাতুড়ি ও দেশি অস্ত্র নিয়ে আচমকা তাঁর ওপর হামলা চালায়। ক্ষোভ প্রকাশ করে ফরিদ বলেন, ‘সারা জীবন বিএনপি করে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমার ভাই প্রতিবাদ করায় তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে যারা বাঁচাতে গেছে প্রত্যেককেই পেটানো হয়েছে।’ হামলার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রামনগর ইউনিয়নের মান্নান মন্ডলের ছেলে শিবলী সাদিকের মোবাইলে বারবার ফোন করা হলেও তিনি সংযোগ কেটে দেন এবং খুদে বার্তারও জবাব দেননি।
ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, রামনগর ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ পেতে আবেদন করেছিলেন আহত খোরশেদ আহমেদ এবং শিবলী সাদিক। তবে চূড়ান্ত তালিকায় শিবলীকে ডিলার হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর প্রতিবাদে ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বঞ্চিত প্রার্থীরা গত রোববার নগরকান্দা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে যুবদল নেতা খোরশেদ অভিযোগ করেছিলেন যে শিবলী টাকার বিনিময়ে ওই ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নগরকান্দার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১২ থেকে ১৫টি করে ডিলারশিপের আবেদন জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে প্রার্থীর একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি ইউনিয়নে একজন করে ডিলার মনোনীত করা হয় এবং গত শুক্রবার সেই তালিকা প্রকাশ্যে এলে বিভিন্ন ইউনিয়নে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মন্ডল নিশ্চিত করেছেন যে সারের ডিলারশিপ নিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবাদের জের ধরেই এই মারামারির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলীমুজ্জামান বঞ্চিতদের দাবির পক্ষে মত দিয়ে বলেন, একজন নিবেদিতপ্রাণ বিএনপি কর্মী সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ডিলারশিপ পাননি, বরং ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কাউকে দেওয়া হয়েছে বলে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তাতে সত্যতা রয়েছে। তবে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মারামারির ঘটনায় থানায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে জানিয়েছেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ।
অন্যদিকে সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে যোগ্য তিনজনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকেই চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাতে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো ভূমিকা ছিল না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে নীতিমালার কোথাও কেবল বিএনপির লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।





